লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র বিশেষ অভিযানে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ও ফেন্সিডিল এবং ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিক মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গংগারহাট ও বনচৌকি বিওপির টহলদল পৃথক ২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ও ফেন্সিডিল এবং ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারিরা সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালানের চেষ্টা করবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ১৮:৪৫ঘটিকায় গংগারহাট বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার উত্তর কুটিচন্দ্রখানা এবং রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ০০:৪০ঘটিকায় বনচৌকি বিওপির আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানার পূর্ব আমঝোল নামক স্থানে পৃথক ২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযান চলাকালে বিজিবি টহলদলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা বহনকৃত মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গংগারহাট বিওপির এলাকা হতে ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ৭শত ৮৪পিছ এবং বনচৌকি বিওপির এলাকা হতে ভারতীয় ফেন্ডিডিল ২১টি বোতল ও ইস্কাপ সিরাপ ১৩টি বোতল জব্দ করতে সক্ষম হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ৭শত ৮৪পিছ, যার সিজার মূল্য ২লক্ষ ৩৫হাজার ২শত টাকা এবং ভারতীয় ফেন্ডিডিল ২১টি বোতল ও ইস্কাপ সিরাপ ১৩টি বোতল, যার সিজার মূল্য ১৩হাজার ৬শত টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ২লক্ষ ৪৮হাজার ৮শত টাকা। এছাড়াও, মাদক চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের শনাক্ত করত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান, মাদক পাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশের যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাসমূহে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।